পূজা ও সংস্কার1 অক্টোবর 2026

সত্যনারায়ণ পূজা: বিধি, উপকরণ, 2026-27 পূর্ণিমার তারিখ

সত্যনারায়ণ পূজাসত্যনারায়ণের কথাপূর্ণিমা 2026পূজার বিধিপূজার উপকরণsatyanarayan puja

সত্যনারায়ণ পূজা বাড়িতে করার এক চিরাচরিত হিন্দু অনুষ্ঠান: সত্যের মূর্ত রূপ সত্যনারায়ণ রূপে ভগবান বিষ্ণুর পূজা, যেখানে পাঁচ অধ্যায়ের কথা (পবিত্র কাহিনি) পাঠ হয় আর পূজা শেষ হয় পঞ্চামৃত ও শীরা (সুজির হালুয়া) প্রসাদ দিয়ে। প্রথা অনুযায়ী এই পূজা হয় পূর্ণিমায়, অর্থাৎ প্রতিটি চান্দ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে, আর নতুন বাড়িতে ওঠা, পরিবারে সন্তানের জন্ম বা নতুন চাকরির মতো আনন্দের উপলক্ষের পরেও। নিচে পাবেন সহজ করে বলা বিধি, উপকরণের পুরো তালিকা, আর সেপ্টেম্বর 2026 থেকে আগস্ট 2027 পর্যন্ত যাচাই করা পূর্ণিমার তারিখ।

সত্যনারায়ণ পূজা কী?

এই পূজার উৎস স্কন্দ পুরাণের রেবা খণ্ড, যেখানে ভগবান বিষ্ণু নিজে নারদ মুনিকে এই ব্রতের কথা বলেন - এমন এক পূজা, যা যে কোনো গৃহস্থ শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্য করতে পারেন। দুটি কারণে সারা ভারতে এই পূজা এত প্রিয়:

  • এই পূজা সবার জন্য। কথা নিজেই বারবার সে কথা মনে করিয়ে দেয়: ধনী হোন বা গরিব, বণিক হোন বা কাঠুরে, ভক্তি থাকলে যে কেউ এই পূজা করতে পারেন।
  • বাড়ির ভেতরে এক সন্ধ্যাতেই হয়ে যায়। সাধারণ রূপে মন্দির বা বড় হোমের দরকার নেই; একটি পরিষ্কার কোণ, একটি ঘট, কথা আর আন্তরিক সংকল্পই (পূজার উদ্দেশ্যের ঘোষণা) এর প্রাণ।

কথার পাঁচ অধ্যায়, সংক্ষেপে

সত্যনারায়ণের কথা পাঁচটি অধ্যায়ে জোরে পাঠ করা হয়, আর পাঁচটি অধ্যায়ই শোনা ব্রতেরই অংশ বলে ধরা হয়:

  1. নারদের প্রশ্ন: মানুষের দুঃখকষ্টে ব্যথিত নারদ মুনি বিষ্ণুর কাছে এর প্রতিকার জানতে চান; ভগবান তাঁকে সত্যনারায়ণ ব্রতের কথা বলেন।
  2. গরিব ব্রাহ্মণ আর কাঠুরে: এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ এই ব্রত করে সচ্ছল হন; তা দেখে এক কাঠুরেও একই ব্রত করে সমৃদ্ধি পান - বোঝা যায়, ব্রত সবার জন্য।
  3. বণিকের মানত: সাধু বণিক নামে এক বণিক কন্যাসন্তান পেলে পূজা দেবেন বলে মানত করেন, তারপর বারবার তা পিছিয়ে দেন, আর তাঁর কপালে নেমে আসে কারাবাস আর সর্বনাশ।
  4. অবহেলার শিক্ষা: প্রসাদকে তুচ্ছ করায় বণিকের পরিবার দুর্ভোগ পোহায়; আবার ব্রতকে সম্মান জানানো হলে হারানো সব কিছু ফিরে আসে।
  5. রাজা তুঙ্গধ্বজ: সাধারণ গোপালকদের প্রসাদ অবজ্ঞা করে এক রাজা পুত্র আর ধনসম্পদ হারান, আর বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রসাদ গ্রহণ করে আবার সব ফিরে পান।

পাঁচটি অধ্যায়ের মূল সুর একই: সত্য রক্ষা করলেই সমৃদ্ধি রক্ষা হয়, আর এই পূজার কাছে কেউই খুব ছোট বা খুব বড় নয়।

সত্যনারায়ণ পূজা কখন করবেন

  • পূর্ণিমা: চিরাচরিত দিন, বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা। অনেক পরিবার একে মাসিক বা বাৎসরিক ব্রত হিসেবে পালন করেন। এই পূজার জন্য বছরের সবচেয়ে শুভ দিন ধরা হয় কার্তিক পূর্ণিমাকে; দেখুন আমাদের পুরো কার্তিক পূর্ণিমা 2026 গাইড।
  • শুভ উপলক্ষের পরে: গৃহপ্রবেশ খুব প্রায়ই শেষ হয় নতুন বাড়িতে সত্যনারায়ণ পূজা দিয়ে। তেমনই সন্তানের জন্ম, বিয়ে, পদোন্নতি বা নতুন ব্যবসার পরে, কিংবা কোনো মানত পূর্ণ হলে। অনেক পরিবারে, বিশেষ করে তেলুগু পরিবারে, বিয়ের পরদিন বরের বাড়িতে নবদম্পতি সত্যনারায়ণ স্বামী ব্রতম হিসেবে এই পূজা করেন; হাজার হাজার মানুষ এটি করতে যান অন্ধ্রপ্রদেশের অন্নবরমে সত্যনারায়ণ মন্দিরে।
  • একাদশী, সংক্রান্তি আর বৃহস্পতিবারও নানা আঞ্চলিক পরম্পরায় উপযুক্ত বলে ধরা হয়।

পূর্ণিমায় প্রথাগত সময় সন্ধ্যা (প্রদোষকাল), তবে সকালের পূজাও প্রচলিত এবং পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য। সূর্যোদয় আর তিথির সময় শহর অনুযায়ী বদলায়, তাই সময় ঠিক করার আগে আমাদের দৈনিক পঞ্জিকায় আপনার শহরের সময় দেখে নিন।

পূর্ণিমার তারিখ: সেপ্টেম্বর 2026 থেকে আগস্ট 2027

এই তারিখ আর তিথির সময় নয়াদিল্লির (ভারতীয় সময়)। পূর্ণিমা তিথি প্রায়ই দুটি তারিখ জুড়ে থাকে; তালিকার তারিখটি সাধারণত সেই দিন, যেদিন সন্ধ্যায় তিথি থাকে, আর পূজাও সাধারণত সন্ধ্যাতেই হয়। কয়েকটি দিনে তিথি সূর্যাস্তের আগেই শেষ হয়ে যায় (যেমন 2027-এর 22 জানুয়ারি, 22 মার্চ আর 20 মে), তাই সেখানে তালিকার তারিখটি সেই দিন, যেদিন সূর্যোদয়ে তিথি থাকে: সেদিন সকালে বা দুপুরের শুরুতে পূজা করুন, যাতে তা তিথির মধ্যে পড়ে, অথবা আপনার পুরোহিতকে জিজ্ঞেস করে নিন। শহরভেদে সময় সামান্য বদলায়।

পূর্ণিমাপূজার দিনপূর্ণিমা তিথি (ভারতীয় সময়, দিল্লি)
ভাদ্রপদ পূর্ণিমাশনিবার, 26 সেপ্টেম্বর 202625 সেপ্টেম্বর রাত 11:06 থেকে 26 সেপ্টেম্বর রাত 10:18
আশ্বিন পূর্ণিমা (শারদ পূর্ণিমা)রবিবার, 25 অক্টোবর 202625 অক্টোবর সকাল 11:55 থেকে 26 অক্টোবর সকাল 9:41
কার্তিক পূর্ণিমামঙ্গলবার, 24 নভেম্বর 202623 নভেম্বর রাত 11:42 থেকে 24 নভেম্বর রাত 8:23
মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) পূর্ণিমাবুধবার, 23 ডিসেম্বর 202623 ডিসেম্বর সকাল 10:47 থেকে 24 ডিসেম্বর ভোর 6:57
পৌষ পূর্ণিমাশুক্রবার, 22 জানুয়ারি 202721 জানুয়ারি রাত 9:29 থেকে 22 জানুয়ারি সন্ধ্যা 5:46
মাঘ পূর্ণিমাশনিবার, 20 ফেব্রুয়ারি 202720 ফেব্রুয়ারি সকাল 7:59 থেকে 21 ফেব্রুয়ারি ভোর 4:52
ফাল্গুন পূর্ণিমা (হোলিকা দহন 21 মার্চ)সোমবার, 22 মার্চ 202721 মার্চ সন্ধ্যা 6:21 থেকে 22 মার্চ বিকেল 4:13
চৈত্র পূর্ণিমামঙ্গলবার, 20 এপ্রিল 202720 এপ্রিল ভোর 4:51 থেকে 21 এপ্রিল রাত 3:56
বৈশাখ পূর্ণিমা (বুদ্ধ পূর্ণিমা)বৃহস্পতিবার, 20 মে 202719 মে বিকেল 4:02 থেকে 20 মে বিকেল 4:28
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাশুক্রবার, 18 জুন 202718 জুন ভোর 4:34 থেকে 19 জুন সকাল 6:13
আষাঢ় পূর্ণিমা (গুরু পূর্ণিমা)রবিবার, 18 জুলাই 202717 জুলাই সন্ধ্যা 6:48 থেকে 18 জুলাই রাত 9:14
শ্রাবণ পূর্ণিমা (রক্ষাবন্ধন 17 আগস্ট)সোমবার, 16 আগস্ট 202716 আগস্ট সকাল 10:28 থেকে 17 আগস্ট দুপুর 12:58

কার্তিক পূর্ণিমা, 24 নভেম্বর 2026, বছরের সবচেয়ে বড় সত্যনারায়ণের দিন। এদিনের জন্য পুরোহিতরা অনেক আগেই বুক হয়ে যান, তাই কার্তিক পূর্ণিমায় পূজার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত এক-দুই সপ্তাহ আগে পুরোহিত ঠিক করে রাখুন।

সহজ বিধি: পূজার ক্রম

পুরো বিধিতে (পূজার নিয়মকানুনে) অঞ্চলভেদে কিছু তফাত আছে, তবে আপনার পুরোহিত সাধারণত এই কাঠামোই মেনে চলবেন:

  1. প্রস্তুতি: পরিবারের সবাই স্নান সেরে পূজা পর্যন্ত উপবাস রাখেন (পুরো উপবাস, বা শুধু ফল খেয়ে)। পূজার জায়গা পরিষ্কার করে একটি নিচু জলচৌকির ওপর নতুন কাপড় পাতা হয়, আর তার ওপর রাখা হয় ভগবান সত্যনারায়ণের ছবি।
  2. ঘটস্থাপন: আমপাতা আর নারকেল দিয়ে সাজানো একটি ঘট (জলভরা কলস) দেবতার পাশে স্থাপন করা হয়, যা ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রতীক।
  3. গণেশ পূজা: বিঘ্ন দূর করতে প্রথমে ভগবান গণেশের পূজা হয়; বড় আকারের পূজায় সঙ্গে নবগ্রহেরও (নয় গ্রহদেবতা) পূজা হয়।
  4. সংকল্প: পুরোহিত পরিবারকে দিয়ে আনুষ্ঠানিক সংকল্প করান: কে পূজা করছেন, কোথায়, কোন তিথিতে, আর কী প্রার্থনায়।
  5. সত্যনারায়ণ পূজা: ষোড়শোপচারে (ষোলোটি প্রথাগত উপচারে) মূল পূজা: আবাহন, দেবতার স্নান, চন্দন, ফুল, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ইত্যাদি; বিষ্ণুর বিশেষ প্রিয় বলে তুলসীপাতা নিবেদন করা হয়।
  6. কথা: পাঁচটি অধ্যায় জোরে পাঠ করা হয়, পরিবারের সবাই মন দিয়ে শোনেন। এটিই ব্রতের প্রাণ।
  7. হোম (ঐচ্ছিক): অনেক পরিবার, বিশেষ করে উত্তর ভারতে, কথার পরে একটি ছোট হোম করেন।
  8. আরতি: প্রদীপ জ্বালিয়ে সত্যনারায়ণের আরতি (ভারতের বেশিরভাগ জায়গায় "ওঁ জয় লক্ষ্মীরমণা"), তারপর জায়গা থাকলে প্রদক্ষিণ।
  9. প্রসাদ ও সমাপন: উপস্থিত সবাইকে পঞ্চামৃত আর শীরা দেওয়া হয়, উপবাস ভাঙা হয়, আর পুরোহিতকে দক্ষিণা দেওয়া হয়। পরের দিন ঘটের জল বাড়ির চারদিকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়, আর পূজার জিনিসপত্র শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে পূজা সমাপ্ত করা হয়।

পুরোহিতকে দিয়ে করালে পুরো অনুষ্ঠানে লাগে প্রায় 1.5 থেকে 3 ঘণ্টা: সাধারণ পূজায় মোটামুটি দুই ঘণ্টা, নবগ্রহ পূজা আর হোম থাকলে তিন ঘণ্টার কাছাকাছি।

পূজার উপকরণের তালিকা

আপনার পুরোহিত তাঁর নিজের তালিকা দেবেন, আর অনেক পুরোহিত শুকনো উপকরণ নিজেরাই সঙ্গে আনেন। সাধারণত যা লাগে:

  • পূজার আসনের জন্য: ভগবান সত্যনারায়ণের ছবি বা মূর্তি, জলচৌকি, দুটি নতুন কাপড় (হলুদ বা সাদা হলে ভালো), ঘট, নারকেল, আমপাতা, আর পাওয়া গেলে চাঁদোয়ার জন্য কলাপাতা বা ছোট কলাগাছ
  • পূজার সামগ্রী: হলুদ, কুমকুম, চন্দন, অক্ষত (গোটা চাল), পৈতে (যজ্ঞোপবীত), পান-সুপারি, ফুল ও মালা, তুলসীপাতা, কর্পূর, ধূপকাঠি, তুলোর সলতে, ঘি, একটি প্রদীপ, দেশলাই
  • পঞ্চামৃতের জন্য: দুধ, দই, ঘি, মধু আর চিনি
  • শীরা প্রসাদের জন্য: সুজি, চিনি, ঘি, দুধ, কলা; আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী কিছু পরিবার আটা দিয়ে বানান (আটার শীরা)
  • নৈবেদ্য: পাঁচ রকম ফল, মিষ্টি, শুকনো ফল, সংকল্পের জন্য কিছু নগদ টাকা
  • হোম হলে: হোমকুণ্ড, সমিধ (বিধিমতো কাঠ), হোমের সামগ্রী

পঞ্চামৃত আর শীরা: এই পূজার দুই বিশেষ প্রসাদ

পঞ্চামৃত, আক্ষরিক অর্থে "পাঁচ অমৃত", হল দুধ, দই, ঘি, মধু আর চিনির মিশ্রণ, যা দিয়ে দেবতাকে স্নান করানো হয় এবং পরে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। শীরা (কোনো কোনো অঞ্চলে সপাত বা প্রসাদম) হল ঘিয়ে ভাজা সুজির মিষ্টি, দুধ, চিনি আর কলা দিয়ে রান্না করা। বাঙালি বাড়িতে এর বদলে দেওয়া হয় সিন্নি: আটা, দুধ, কলা আর চিনি হাতে মেখে তৈরি, রান্না করা নয়। সাধু বণিক আর রাজা তুঙ্গধ্বজের কাহিনির মধ্য দিয়ে কথা নিজেই সাবধান করে দেয়: প্রসাদ কখনও ফিরিয়ে দেওয়া বা হেলাফেলা করা চলবে না; বিনয়ের সঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করাও ব্রতের অঙ্গ।

কেন অনেকে এই পূজায় পুরোহিত ডাকেন

সত্যনারায়ণ পূজা পরিবার নিজেরাও করতে পারে, আর পরম্পরা স্পষ্টভাবেই সেই অনুমতি দেয়। তবু বেশিরভাগ পরিবার পুরোহিতকেই পছন্দ করে, আর তার সঙ্গত কারণ আছে: সংকল্প আর ষোড়শোপচারের মন্ত্র ও ক্রম ঠিকঠাক থাকে, কথা এক বৈঠকে ঠিকভাবে পাঠ হয় আর তার মানেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়, আর পরিবার যজমান (অনুষ্ঠানের আয়োজক) হয়ে বসে সত্যিই অংশ নিতে পারে - বই, ফোন আর ঘিয়ের প্রদীপ একসঙ্গে সামলাতে হয় না। বিশেষ উপলক্ষের পূজায় - নতুন বাড়ি, নবজাতক, বিয়ের পরের প্রথম পূর্ণিমা - বেশিরভাগ পরিবারই চান কাজটা ঠিকভাবে হোক।

পূজার পরিকল্পনা করলে Purohit.app-এ যাচাই করা পুরোহিতের জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন। আপনার শহর, ভাষা আর পছন্দের তারিখ জানান, একজন যাচাই করা পুরোহিত নিজেই আপনাকে ফোন করে বিধি, উপকরণ আর দক্ষিণা পাকা করে নেবেন। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, পুনে, মুম্বই আর দিল্লিতে সত্যনারায়ণ পূজার জন্য আমরা পুরোহিতের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিই।

প্রশ্ন ও উত্তর

সত্যনারায়ণ পূজা কখন করা উচিত?

চিরাচরিত দিন পূর্ণিমা, অর্থাৎ প্রতিটি চান্দ্র মাসের পূর্ণিমা তিথি, প্রথা অনুযায়ী সন্ধ্যাবেলা। এছাড়া গৃহপ্রবেশ, সন্তানের জন্ম, বিয়ে বা নতুন চাকরির মতো শুভ উপলক্ষের পরেও এই পূজা করা হয়, আর কোনো কোনো পরম্পরায় একাদশী, সংক্রান্তি বা বৃহস্পতিবারেও। এই পূজার জন্য বছরের সবচেয়ে শুভ দিন ধরা হয় কার্তিক পূর্ণিমাকে।

সত্যনারায়ণ পূজার পরের বড় দিন কবে?

সামনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ কার্তিক পূর্ণিমা, মঙ্গলবার, 24 নভেম্বর 2026 - বছরের সবচেয়ে বড় সত্যনারায়ণের দিন। তার আগে শারদ পূর্ণিমা পড়ছে রবিবার, 25 অক্টোবর 2026। কার্তিক পূর্ণিমার সময় পুরোহিতের চাহিদা খুব বেশি থাকে, তাই আগেভাগে বুক করুন।

সত্যনারায়ণ পূজায় কত সময় লাগে?

পুরোহিতকে দিয়ে করালে প্রায় 1.5 থেকে 3 ঘণ্টা। ঘটস্থাপন, মূল পূজা, পাঁচ অধ্যায়ের কথা আর আরতি নিয়ে সাধারণ পূজায় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা; নবগ্রহ পূজা আর হোম যোগ করলে তিন ঘণ্টার কাছাকাছি।

পুরোহিত ছাড়া কি বাড়িতে সত্যনারায়ণ পূজা করা যায়?

হ্যাঁ, পরম্পরা স্পষ্টভাবেই গৃহস্থকে ভক্তিভরে বই থেকে কথা পড়ে নিজে পূজা করার অনুমতি দেয়। অনেকে পুরোহিত বুক করেন, কারণ তাতে সংকল্প, মন্ত্র আর ষোলোটি উপচার ঠিকভাবে হয় এবং বুঝিয়েও দেওয়া হয়, আর পরিবার নিজে বিধি সামলানোর বদলে যজমান হিসেবে নিশ্চিন্তে অংশ নিতে পারে।

পূজার দিন কেমন উপবাস রাখা হয়?

যে পরিবার পূজা করছেন, প্রথা অনুযায়ী তাঁরা সকাল থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত উপবাস রাখেন - সামর্থ্য অনুযায়ী পুরো উপবাস, বা ফল আর দুধ খেয়ে। আরতির পরে পঞ্চামৃত আর শীরা প্রসাদ গ্রহণ করে উপবাস ভাঙা হয়।

পঞ্চামৃত কী দিয়ে তৈরি হয়?

পঞ্চামৃত পাঁচটি উপকরণের মিশ্রণ: দুধ, দই, ঘি, মধু আর চিনি। পূজার সময় এ দিয়ে দেবতাকে স্নান করানো হয়, তারপর প্রথম প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়, তার পরে শীরা।

শীরা প্রসাদ সুজি দিয়ে কেন বানানো হয়, আটা দিয়ে কি বানানো যায়?

ঘিয়ে রান্না করা, দুধ, চিনি আর কলা দেওয়া সুজির শীরাই ভারতের বেশিরভাগ জায়গায় সত্যনারায়ণের প্রচলিত প্রসাদ, আর কথায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে এই প্রসাদ সবাইকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। কয়েকটি আঞ্চলিক পরম্পরায় সুজির বদলে আটা দিয়ে বানানো হয়, আর বাঙালি বাড়িতে দেওয়া হয় সিন্নি, একই উপকরণ রান্না না করে হাতে মেখে; সবকটিই সঠিক বলে ধরা হয়; আপনার পরিবারের রীতি বা পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলুন।

কথার সময় কি পরিবারের সবার থাকা দরকার?

যে দম্পতি বা গৃহস্থ পূজা করছেন, তাঁদের পুরো সময় উপস্থিত থাকতে হয়; আর পরম্পরা চায় বাড়ির সবাই, সঙ্গে প্রতিবেশী আর বন্ধুরাও, বসে পাঁচটি অধ্যায়ই শুনুন। কথা শোনা আর প্রসাদ গ্রহণ করাও ব্রতের পুণ্যের অংশ বলে ধরা হয়।

পূজার সময় দেবতার মুখ কোন দিকে থাকবে?

সাধারণ রীতি হল পূজার আসন এমনভাবে সাজানো, যাতে দেবতার মুখ পশ্চিমে থাকে আর পরিবার পূর্বমুখী হয়ে দেবতার দিকে বসে; তবে কোনো কোনো অঞ্চলে দেবতাকে পূর্বমুখী করেও বসানো হয়। আপনার বাড়ির গঠন অনুযায়ী পুরোহিত ঠিকভাবে আসন সাজিয়ে দেবেন, তাই পূজার কোণ বদলানো না গেলেও চিন্তা করবেন না।

আমরা কীভাবে যাচাই করি: আমাদের লেখার তারিখ ও মুহূর্ত প্রকাশের আগে পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর ব্যবহারিক খুঁটিনাটি - সামগ্রী, সময়, দক্ষিণা - Purohit.app-এর আসল বুকিং থেকে নেওয়া। রীতি সম্প্রদায়ভেদে আলাদা হয়; আপনার পুরোহিতের পরামর্শই শেষ কথা। এই পাতাটি আমাদের ইংরেজি লেখার অনুবাদ। কোথাও কিছু আলাদা মনে হলে ইংরেজি পাতাটিকেই মান্য ধরুন।

আপনার অনুষ্ঠানের জন্য পুরোহিত দরকার?

কোন পূজা করাতে চান জানান। আপনার শহরের পুরোহিতরা ফোন বা WhatsApp-এ যোগাযোগ করবেন।

পুরোহিতের জন্য অনুরোধ করুন

আপনার তারিখের জন্য কার্ড বানান

সামনের সব উৎসব আর ব্রত, আপনার শহরের তারিখ সহ

সম্পর্কিত লেখা

উৎসব ও ব্রত

কার্তিক পূর্ণিমা 2026 (24 নভেম্বর): দেব দীপাবলি

কার্তিক পূর্ণিমা 2026 পড়ছে মঙ্গলবার, 24 নভেম্বর, আর সেদিন সন্ধ্যাতেই দেব দীপাবলির আলোয় সাজবে বারাণসী। পুণ্যস্নান, দীপদান, ত্রিপুরারির কাহিনি, আর বাড়িতে সত্যনারায়ণ পূজার জন্য কেন এটি বছরের সেরা দিন - সব এই গাইডে।

পূজা ও সংস্কার

স্মার্ত শ্রাদ্ধ বিধি: বাৎসরিক শ্রাদ্ধ, ধাপে ধাপে

স্মার্ত বাৎসরিক শ্রাদ্ধে ক্রম অনুযায়ী কী হয়: সংকল্প, ব্রাহ্মণদের আসন, অর্ঘ্য, অগ্নিতে আহুতি, নীরব ভোজন, বিদায় আর পিণ্ডপ্রদান - সঙ্গে আপস্তম্ব, কাত্যায়ন আর আশ্বলায়ন শাখার তফাত।

পূজা ও সংস্কার

মুণ্ডন সংস্কার: শিশুর প্রথম চুল কাটা, মুহূর্ত ও বিধি

শিশুর প্রথম চুল কাটার সংস্কার মুণ্ডন বা চূড়াকরণ নিয়ে বাবা-মায়ের জন্য গাইড: জন্মের চুল কেন কামানো হয়, 1ম না 3য় বছরে, মুহূর্ত কীভাবে বাছা হয়, পুরো বিধি, তিরুপতি ও হৃষীকেশে তীর্থ-মুণ্ডন, আর পরের যত্ন।

Purohit App

Panchang & Kundali

Get App